স্টাফ রিপোর্টার যশোর।। যশোর শহরে খাদ্যের খোঁজে দল বেঁধে ঘুরছে হনুমান। ক্ষুধার তাড়নায় হানা দিচ্ছে পথচারী ও বাড়ি বাড়ি। তাড়া করলে হনুমান দল বেঁধে হামলা করে আহত করছে মানুষকে। গত ৩ দিনে শহরে পুলিশ সদস্যসহ মোট ১২ জন হনুমানের কামড়ের শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে দু’জন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, শহরের ধর্মতলা এলাকার শিমুল হোসন(৩৭) ও আপন (২৭)।
তারা বৃহস্পতিবার শহর থেকে হেঁটে কালেক্টরেট পার্কের সামনে দিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কালেক্টরেট পার্কের সামনে পৌঁছালে হনুমান তাদের পায়ে ও পিঠে কামড় দিয়ে জখম করে। পরে তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এর আগে হনুমানের কামড়ে আহত হয়ে বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হন শহরের কারবালা এলাকার সিরাজুল ইসলাম (৫০) ও ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার মনিরুল ইসলাম (৬২)। তারা বকুলতলা এলাকার রাস্তা পার হওয়ার সময় হনুমান হঠাৎ তাদের কামড় দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে ভর্তি করলে রাতে তারা বাড়িতে চলে যান। এ সময় জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন, শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল মোজাম্মেল হোসেন (৫২) ও ঝাড়ুদার বিপ্লব দাস (৩০), শহরের ঘোপ এলাকার সৈকত হোসেন (১৮), মনিরুজ্জামান (৭৪), আব্দুল কাদির (১২) এবং আকবর হোসেন(৪৫)।
বানরের হামলা আহত কিশোর এছাড়া মঙ্গলবারে বশির আহম্মেদ (৫০) ও হাসমত আলী (৪৫) হনুমানের কামড় খেয়ে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত শিমুল জানান, দুপুরে পায়ে হেঁটে বাড়িতে ফেরার পথে কালেক্টরেট পার্কের সামনে একটি হনুমান এদিক ওদিক লাফিয়ে বেড়াছিলো। এর এক পর্যায়ে হঠাৎ তার উপর আঁচড়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজনের তাড়া দেওয়ার কারণে হনুমানটি পালিয়ে যায়।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রশিদ জানান, বৃহস্পতিবার দুই জনসহ তিনদিনে ১২ জনকে হনুমান কামড় দিয়েছে। এর মধ্যে ক্ষত বেশি হওয়ার কারণে দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সকলকে ভ্যাকসিন টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বনবিভাগের যশোর রেঞ্জ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, কয়েকটি হনুমান ক্ষুধার্ত। তারা খাদ্য না পেয়েও কামড় দিতে পারেন। হনুমানগুলো খাবারের সন্ধানে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেগুলো কামড় দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
বনবিভাগের যশোর অঞ্চলের বনসংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, এ বিষয়ে আমার আগে জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। মানুষের ভোগান্তি লাঘবের জন্য হনুমানের খাদ্যের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।